অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত জানান, আগামী অর্থবছরের বাজেটের আকার হবে প্রায় ৩ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা। ৭ শতাংশের বেশি মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি প্রাক্কলন করা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্ব প্রেক্ষাপটে এ প্রাক্কলন একটু উচ্চাভিলাষী। বিশ্ব প্রবৃদ্ধি কমেছে, অথচ আমরা কয়েক বছর ধরে ৬ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছি। এটাই অর্থনীতির শক্তি।’ গত ৩ মার্চ ২০১৬ দেশের অর্থনীতি-বিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠানের গবেষকদের সঙ্গে প্রাক্-বাজেট আলোচনায় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এ কথা বলেন।

পরিকল্পনা কমিশনের এনইসি সম্মেলনকক্ষে এই প্রাক্-বাজেট আলোচনা হয়। এতে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইকোনমিক রিসার্চ গ্রুপের (ইআরজি) চেয়ারম্যান ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদসহ অর্থনীতিবিদ ও গবেষকেরা উপস্থিত ছিলেন।

বড় প্রকল্পের জন্য আলাদা বাজেট রাখার পক্ষেই মত দেন অর্থনীতিবিদ ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। তবে তিনি পরামর্শ দেন, এ ধরনের মেগা প্রকল্পের ত্রুটি-বিচ্যুতি, লাভ-ক্ষতি, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী পর্যায়ে প্রভাব—এসব বিষয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করা উচিত। কেননা এমন বড় প্রকল্প করে বহু দেশ ভুগেছে।

ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, অর্থায়ন বড় বাজেটের সমস্যা নয়, বাস্তবায়নই সমস্যা। তাই যতটা বাস্তবায়ন সাধ্য আছে, বাজেট ততটাই বড় করা উচিত। তিনি বলেন, বিশ্বমন্দার কারণে বাংলাদেশের কিছু ‘অপ্রকাশিত জয়’ হয়েছে। বাড়তি খরচের জন্য বাজেটে জায়গা তৈরি হয়েছে। তাই নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নে বাড়তি ২-৩ বিলিয়ন ডলার খরচ করা সম্ভব হয়েছে।

বিনিয়োগ প্রসঙ্গে ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, দেশের ভেতরে বেসরকারি বিনিয়োগ চাঙা করাই চ্যালেঞ্জ। বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি না পাওয়ায় সরকারের বড় বাজেট করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে এটা সরকারের জন্য চ্যালেঞ্জও।

এ ছাড়া সারচার্জ আরোপের সমালোচনা করে বলেন, এতে করদাতার ওপর ন্যায়বিচার হয় না। বহু বছর আগে যে দামে সম্পদ কেনা হয়েছিল, সেটাই সম্পদ বিবরণী থাকে। এ জন্য সারচার্জ দিতে হয় না। ওই ব্যক্তি যদি ওই সম্পদ বিক্রি করে ব্যাংকে নগদ টাকা রাখেন, তবে তাঁকে সারচার্জ দিতে হবে।

ইআরজির নির্বাহী পরিচালক সাজ্জাদ জহির বলেন, যেসব প্রতিষ্ঠান উৎসে কর দেয়, তারা আয়কর বিবরণী জমা দেয় কি না, তা তদারক করা উচিত। এতে রাজস্ব আদায় বাড়বে।

অবকাঠামো খাতের পাশাপাশি কৃষিপণ্যের বাজারজাত করার জন্য মেগা প্রকল্প নেওয়ার সুপারিশ করেন বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) মহাপরিচালক কে এ এস মুরশিদ। তাঁর মতে, শিক্ষা ও মৌলিক মানব উন্নয়নে বাজেটে পর্যাপ্ত গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না।

বিআইডিএসের সাবেক মহাপরিচালক কাজী শাহাবুদ্দীন বলেন, বিনিয়োগ পরিবেশ নেই, আবার সুদের হারও বেশি। এ কারণেই বেসরকারি বিনিয়োগ আনা যাচ্ছে না। বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের প্রণোদনা না দিলে তারা কেন আসবে?

অর্থনীতি সমিতির সাধারণ সম্পাদক জামালউদ্দিন আহমেদ স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি ও শেয়ারবাজারে লেনদেন নিষ্পত্তির জন্য আলাদা কোম্পানি গঠনের পরামর্শ দেন।

সভায় আরও বক্তব্য দেন বিআইডিএসের গবেষক নাজনীন আহমেদ, ইআরজির কোষাধ্যক্ষ মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, অর্থসচিব মাহবুব আহমেদ, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান প্রমুখ।

সূত্র: প্রথম আলো/ ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস

আসছে ৩ লক্ষ ৪০ হাজার কোটি টাকার বাজেট – প্রাক-বাজেট মতবিনিময় সভায় অর্থমন্ত্রী