জাতীয় বাজেটের গণতন্ত্রায়ন ও বিকেন্দ্রীকরণ – আঞ্চলিক বৈষম্য এবং দারিদ্র হ্রাসে কিছু প্রস্তাবনা

এ. আর. আমান

ভূমিকা

জাতীয় বাজেট নিঃসন্দেহে অতীব গুরুত্বপূর্ণ একটি জনদলিল এবং জনমানুষের আকাংখার প্রতীকী ধারক। শুধু সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য নয়, তৃণমূল জনগোষ্ঠীর প্রাত্যহিক জীবনের অন্যতম প্রভাবক জাতীয় বাজেট। কিছুদিন আগেও ‘জিনিসপত্রের দাম বাড়লো না কমলো’ এটাই ছিল বাজেট বিষয়ে সাধারণ মানুষের আলোচনার মূল বিষয়। একসময় বাজেট বিষয়ক জ্ঞান ও বিদ্যাচর্চা ছিল শুধু অর্থশাস্ত্র ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ছাত্রদের সিলেবাসের সম্পদ; শীর্ষ ব্যবসায়ী শ্রেণী ছাড়া বাজেট নিয়ে কাউকে হইচই করতে দেখা যেত না। সরকারি দলপন্থীদের গতানুগতিক অভিনন্দন বাণী আর বিরোধী দলের ঢালাও প্রত্যাখ্যানের মিছিল রাজপথ আর পত্রিকার পাতা অলংকৃত করতো। নব্বইয় দশক পরবর্তী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় উত্তোরণের বিভিন্ন পর্যায়ে জাতীয় বাজেটকে কেন্দ্র করে পেশাজীবি, বুদ্ধিজীবী, বেসরকারি সংস্থা ও নাগরিক সমাজের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি হওয়ায় বাজেটকে কেন্দ্র করে নতুন আলোচনা তৈরির পথ প্রশস্ত হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় এখন প্রাকবাজেট আলোচনা ও বাজেট প্রতিক্রিয়ায় বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষকে সম্পৃক্ত হতে দেখা যাচ্ছে। নারীর বাজেট, কৃষকের বাজেট, প্রতিবন্ধীর বাজেট ইত্যাদি নির্দিষ্ট খাত ভিত্তিক বাজেট প্রস্তাবনা করা হচ্ছে সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্র থেকে, মূলতঃ খাত ভিত্তিক বাজেট বরাদ্দ বৃদ্ধি এসব আলোচনার মূল সুর। বাজেট কেন্দ্রিক এই সকল প্রস্তাবনা ও আলোচনার সবই কেন্দ্রীয় সরকারের শীর্ষ ব্যক্তিদেরকে উদ্দেশ্য করে করা হয়ে থাকে, অথচ এ সকল আলোচনা-প্রস্তাবনা সরকারের শীর্ষ কর্তাব্যক্তিদের কাছে পৌঁছায় কিনা তার যথাযথ সন্দেহ মনের মধ্যে রেখেই সংলাপ চালিয়ে যাচ্ছি আমরা। আর মন্ত্রী মহোদয়দের শীর্ষ ব্যবসায়ী গোষ্ঠী ছাড়া এতসংখ্যক শ্রেণী পেশার মানুষের দাবি শোনার অবকাশই বা কোথায়! সুতরাং জনআকাংখা ও দাবি সরকারের কাছে পৌঁছাতে হলে বাজেট প্রণয়ন ও বাস্তবায়নকারীকে জনতার কাছাকাছি থাকতে হবে তথা বাজেট প্রক্রিয়ার বিকেন্দ্রীকরণ ও গণতান্ত্রিকরণ করতে হবে। আমাদের স্মরণ রাখা দরকার প্রতিটি নাগরিক, জাতিগোষ্ঠী ও অঞ্চলের স্বতন্ত্র ও সম্মিলিত উন্নয়ন ছাড়া কোন ভাবেই জাতীয় উন্নয়ন তথা দারিদ্র বিমোচন সম্ভব নয়। এজন্য দরকার সুষম জাতীয় বিনিয়োগ পরিকল্পনা, যা হতে হবে প্রতিটি জাতিগোষ্ঠী ও অঞ্চলের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য ও চাহিদার নিরিখে ন্যায্য ও সামঞ্জস্যপূর্ণ। এক্ষেত্রে সংবিধানের ১৯.১ (ক) অনুচ্ছেদে বর্ণিত সুষম জাতীয় উন্নয়ন এবং পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ ব্যবস্থার কথা স্মরণ রাখা দরকার।

গণতান্ত্রিক বাজেট কেন?

বাংলাদেশে বর্তমানে একটি অত্যন্ত কেন্দ্রীভূত সরকার রয়েছে। একটি গ্রামে রাস্তা বানাতে হলে বা একটি প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা বা শিক্ষার ব্যবস্থা করতে গেলে রাজধানীতে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। প্রতিটি নিয়ন্ত্রণবিধি ঢাকা থেকে শুধু উদ্ভূত নয় তার কার্যকরী প্রয়োগও হয় কেন্দ্রে। “উইলডাভ্স্কির মতে, বর্তমান বাজেট তৈরি প্রক্রিয়া ‘যন্ত্রযুগে ঘোড়ার গাড়ি’-র মতোই সেকেলে যা একুশ শতকে বসে সমর্থন যোগাচ্ছে উনিশ শতকের আচরণকে। আপাত বৈপরীত্যে, শিল্পায়িত ও উন্নত দেশসমূহে সম্ভবত জনকল্যাণের জন্য সরকারি ব্যয় যখন ফুলে-ফেঁপে উঠেছে তখন বাজেট তৈরি প্রক্রিয়া হচ্ছে আরও কেন্দ্রীভূত, যা কার্যত ছিনিয়ে নিচ্ছে জনগণ ও তাদের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণের অধিকার”। ব¯ত্তত “কেন্দ্রীয় সরকারে যে ব্যবস্থা তাতে প্রতিটি বিষয় নানা আমলাতান্ত্রিক স্তরে বারবার বিবেচিত হয়ে, অন্ততপক্ষে প্রায় ডজনখানেক ঘাট পেরিয়ে তবে সিদ্ধান্ত গ্রহন সম্ভব হয়। উপজেলা/ থানার কর্মকর্তা জেলায় তার বড় সাহেবের কাছে প্রস্তাব রাখলে তা নানা ঘাট ঘুরে প্রস্তাব যায় ঢাকায়। কোন সময় আবার বিভাগীয় বা আঞ্চলিক পর্যায়ে বিবেচনা চলে। ঢাকায় দপ্তর বা সংস্থায়ও মোটামুটি চার পর্যায়ে বিবেচিত হয়ে তা যায় সচিবালয়ে। সেখানে কোন ক্ষেত্রে তিন পর্যায়ে কখনো চার বা পাঁচ স্তরে ঘুরে সিদ্ধান্ত হয়। এই ব্যবস্থায় কোন জবাবদিহিতার প্রয়োজন পড়ে না এবং প্রতিটি স্তরে অন্যায় আদায়ের ( ঘুষের) বা হয়রানির সুযোগ পূর্ণোদ্যমে ব্যবহৃত হয়। একটি অতিকায় প্রশাসনিক দানব ঢাকায় একটি জগদ্দল পাথরের মতো দেশের সমুদয় সৃজনশীল উদ্যোগ এবং উন্নয়ন উদ্যমের উপর চেপে বসে আছে। বস্তুতপক্ষে জনহিতের শত্র“ এই শাসনব্যবস্থাকে একেবারে পরিবর্তন না করতে পারলে এই দেশের ‘প্রকৃতির রাজত্ব’ হলে আশ্চর্যের কিছু নেই। অথচ শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের সুবর্ণ সুযোগ এ দেশে আছে। রাজনৈতিকভাবে সবাই স্থানীয় সরকারে ক্ষমতা অর্পণের ঘোষণা দিয়ে বসে আছেন।”

“একটি জাতীয় বাজেট প্রণীত হয় বাৎসরিক ভিত্তিতে। স্বার্থসংশ্লিষ্টদের চাহিদার ব্যাপারে সুপারিশ দেবার জন্য খুবই কম সময় বার্ষিক বাজেটচক্র দেয়। বাজেট তৈরির তাড়াহুড়োয় নতুন চাহিদাগুলোকে প্রায়ই মুলতবি রাখা হয়। কেননা এগুলো প্রক্রিয়াজাত করতে বড় দেরি হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তবে, তার সাথে এই নিশ্চয়তা অবশ্য দেয়া হয় যে, আগামী বছরে সেগুলো বিবেচনা করা হবে। কিন্তু বেশির ভাগ প্রতিশ্র“ত বিষয়গুলো আগামী বছরে কখনোই আসে না। সময়ের বাঁধাধরা নিয়ম শুধুমাত্র স্বার্থসংশ্লিষ্ট মহলকেই নয়, বরং জনগণের পক্ষ থেকে ব্যয় তদারকির দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাচিত প্রতিনিধিদেরও অংশগ্রহণ রুদ্ধ করে দেয়। বাজেট প্রণয়নের ক্ষেত্রে নির্বাহীরা অর্থবছরের বেশিরভাগটাই ব্যয় করে ফেলেন, তাই আইনপ্রণেতারা বেশি সময় পান না”।

বলাবাহুল্য বর্তমানে যেখানে নির্বাচিত তথা গণতান্ত্রিক সরকার রয়েছে সেখানে জাতীয় বাজেটও যে গণতান্ত্রিক হিসেবে বিবেচিত হবে – এমন ভাবাটা অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু আমাদের সরকারের প্রাত্যহিক ক্রিয়াকর্মে ও উন্নয়ন কর্মসূচিতে জনগণের অংশগ্রহণ কতটুকু তা যেমন প্রশ্নের অবকাশ রাখে, তেমনি জাতীয় বাজেট তথা বার্ষিক পরিকল্পনায় জনগণের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ কতটুকু তাও ব্যাখ্যার দাবি রাখে। “সারা বিশ্ব জুড়ে জাতীয় বাজেটগুলোর বড়সড় দুটো সীমাবদ্ধতা রয়েছে। প্রথমত, তাদের গণতান্ত্রিক চেহারা থাকা সত্ত্বেও জাতীয় বাজেটগুলো আসলে গুটিকয়েক লোকেরই কাজ। আয় ও ব্যয়ের ভারসাম্য এবং একটি কঠোর সময়সূচির মধ্যে অনুমোদনের বাধ্যবাধকতা বিপুলসংখ্যক স্বার্থসংশ্লিষ্ট মহলকে বাজেট প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত ফলাফলে অংশগ্রহণ থেকে সরিয়ে রাখে। যেখানে জনগণ একটি মুখোমুখি সিদ্ধান্তগ্রহণ প্রক্রিয়ায় নিজেরাই সিদ্ধান্ত নিতে পারে সেখানে একটি জাতীয় বাজেট হচ্ছে প্রত্যক্ষ গণতন্ত্রের সম্পূর্ণ বিপরীত” । আমরা দেখছি যে, সরকার গঠন করতে প্রতি পাঁচ বছরে একবার ভোটাধিকার প্রয়োগ করা আর ক্ষেত্র বিশেষে স্থানীয় সরকারের নির্বাচন ছাড়া সাধারণ মানুষের মতামত বা রায় দেয়ার জন্য আর কোন জায়গা নেই। উন্নয়ন সংগঠন ও নাগরিক সমাজের দীর্ঘদিনের ওকালতির ফলে ইদানিং যদিও কোন কোন ক্ষেত্রে আমজনতার অংশগ্রহণের সুযোগ মেলে কিছু নীতি নির্ধারণী বিষয়ে, কিন্তু প্রকৃত অর্থে তা জনগণকে ক্ষমতায়িত করে না। রবার্ট চেম্বার্স এর বিবেচনায় এ প্রক্রিয়াগুলো জনগণকে তথ্য জানানোর মাধ্যম হিসেবে, কখনো পরিকল্পনা জায়েজ করার পদ্ধতি হিসেবে আবার কখনো কখনো দাতাদের বাধ্যবাধকতার কারণে করা হয়ে থাকে। বাজেটকে সত্যিকার অর্থে গণতান্ত্রিক করতে হলে জনগণের শুধু মতামতই যথেষ্ট নয়; সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া, কর্মসূচি বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়নেও তার কার্যকর উপস্থিতি দরকার। সুতরাং তাত্ত্বিক ও প্রায়োগিক অর্থে আমাদের জাতীয় বাজেট প্রণয়ন প্রক্রিয়া কোনভাবেই জনঅংশগ্রহণমূলক নয়। কেউ প্রশ্ন করতে পারেন, তাহলে সংসদসদস্যরা জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে বাজেট প্রক্রিয়ায় অংশ নিলে তা কি গণতান্ত্রিক হবে না? এ প্রশ্নের উত্তর হচ্ছে, প্রথমতঃ ওয়েস্ট মিনি¯টার ধাঁচের সংসদীয় পদ্ধতি আমাদের দেশে কার্যকর কোন ভূমিকা রাখতে পারেনি, যার ফলে জাতীয় সংসদে জনগণের সমস্যা ও অগ্রাধিকার নিয়ে কার্যকর কোন আলোচনা হয়না বললেই চলে। অর্থাৎ সংসদসদস্যরা জনগণের মূখপাত্র হিসেবে কার্যকর কোন ভূমিকা রাখতে পারছেন না। দ্বিতীয়তঃ বাজেট প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় সংসদসদস্যদের বা সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলোর কোন আনুষ্ঠানিক ভূমিকা নেই। তৃতীয়তঃ বাজেট অধিবেশনে সংসদসদস্যদের আলোচনার সুযোগ থাকলেও বিগত ১৯৯৭-৯৮ থেকে ২০০৬-০৭ পর্যন্ত দশ বছর ধরে বাজেটের ওপর বিশদ আলোচনা এবং ভোটদানের জন্য সদস্যদের প্রতি অধিবেশনে গড়পড়তায় ২০.৭ দিনে গড়ে মোট ৩৪.৫৯ ঘন্টা সময় দেয়া হয়েছে, যেখানে ২০০৪ ও ২০০৫ সালে সর্বোচ্চ ১৫২ জন সংসদসদস্য গড়ে ১৫.২ মিনিট আলোচনা করার সুযোগ পেয়েছেন। অর্থাৎ জাতির এক বছরের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় বর্তমান ৩৪৫ জন সংসদসদস্যের মধ্যে অর্ধেকেরই মতামত দেয়ার কোন সুযোগ নেই। সুতরাং জাতীয় বাজেট প্রণয়নে সংসদসদস্যদের মাধ্যমে পরোক্ষ জনমত প্রকাশের সুযোগও সীমিত।

সত্যিকার অর্থে বাজেটের গণতান্ত্রিক চরিত্র পেতে হলে দরকার সক্রিয় ও ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলগুলোর প্রবল সদিচ্ছা। শুধু নির্বাচনী মেনিফেস্টোতেই নয়, প্রতিদিনের দলীয় কর্মসূচিতেও এর প্রতিফলন দরকার। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে সত্য যে, পাকিস্তান আমল থেকে আজ অবধি নির্বাহী ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ কর্মসূচি শুধু সামরিক জান্তা ও অরাজনৈতিক সরকারগুলোই প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে; ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলগুলোর এ বিষয়ে ছিল দারুণ অনীহা। অথচ জনগণের প্রত্যক্ষ সমর্থন নিয়ে গত ২০ বছর ধরে দুটি প্রধান ধারার রাজনৈতিক শক্তি ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। বর্তমানে যদিও ইউনিয়ন ও উপজেলা এবং পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনগুলোতে নির্বাচিত স্থানীয় সরকার রয়েছে; কিন্তু পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনগুলো এক্ষেত্রে যুগ পরম্পরায় কিছুটা নির্বাহী ক্ষমতা ভোগ করলেও ইউনিয়ন ও উপজেলা সরকারগুলো স্থানীয় প্রশাসন ও সংসদসদস্যদের সাথে ক্ষমতা ভাগাভাগি করতে গলদঘর্ম। আর জেলা পরিষদগুলোকে তো জেলা প্রশাসনের দাপটের মুখে যুগের পর যুগ ধরে অনির্বাচিত ও অকার্যকর অবস্থায় রাখা হয়েছে।

সমস্যা অবশ্য কেবল রাজনৈতিক সদিচ্ছার নয়, স্থানীয় সরকারকে তথা জনগণের খুব কাছের সরকারকে ক্ষমতা অর্পন করতে অন্যতম বাধা এদেশের আমলাতন্ত্রের ক্ষমতা আঁকড়ে ধরার ঔপনিবেশিক মানসিকতা। তবে আমলাতন্ত্রের এই ক্ষমতাও মন্ত্রণালয় বা বিভাগ অনুযায়ী সুষম নয়। ২০০৩ সালের আগ পর্যন্ত সকল মন্ত্রণালয় ও বিভাগসমূহ তাদের স্ব-স্ব বাজেট তৈরি করতে পারতো না, অর্থমন্ত্রণালয় তার গতানুগতিক হিসাব এবং রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাহিদার ভিত্তিতে নিজস্ব বিবেচনায় এককভাবে অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের বাজেট তৈরি করতো। পরবর্তীতে পিআরএসপির আওতায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগসমূহকে স্ব-স্ব মন্ত্রণালয়ভিত্তিক পৃথক বাজেট তৈরির জন্য রিসোর্স এনভেলপ দেয়া হয় যাতে তারা নির্দিষ্টকৃত বাজেটের মধ্যে তাদের অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে নিজস্ব বাজেট প্রণয়ন করতে পারে এবং তিন বছর মেয়াদের মধ্যমেয়াদী বাজেট কাঠামোর আওতায় পরবর্তী বছরগুলোর জন্য একটা ধারাবাহিক বাজেট কাঠামো দাঁড় করাতে পারে। বর্তমানে ২০১০-১১ পর্যন্ত ৩৩টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে মধ্যমেয়াদী বাজেট কাঠামোর আওতায় আনা হয়েছে। তাছাড়া এ পর্যন্ত ২৪টি মন্ত্রণালয়/ বিভাগে পরিকল্পনা ও বাজেট শাখা চালু করা হয়েছে। উল্লেখ্য ২০১১-১২ অর্থবছর থেকে পাঁচসালা পরিকল্পনা ফিরিয়ে আনার চিন্তা করছে সরকার যার আওতায় তিন বছর মেয়াদের মধ্যমেয়াদী বাজেট কাঠামোকে পাঁচ বছর মেয়াদী করার পরিকল্পনা রয়েছে। পরিকল্পনা যাই হোক তাতে জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন কতটুকু ঘটবে সেটাই বিবেচনার দাবি রাখে।

বাজেট বিকেন্দ্রীকরণ : সাংবিধানিক অঙ্গীকার

বাংলাদেশের মূল সংবিধান মানুষের ক্ষমতায়ন ও স্থানীয় স্বায়ত্ত্বশাসনকে অগ্রাধিকার দেয় এবং নানা কাঁটাছেড়ার পরও এই অগ্রাধিকার বহাল আছে। সংবিধানে বলা আছে যে স্থানীয় পর্যায়ে- (১) প্রশাসন ও কর্মচারীদের কার্য, (২) জনশৃঙ্খলা রক্ষা, (৩) জনগনের কার্য ও উন্নয়ন সম্পর্কিত পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের দায়িত্ব নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানের উপর দিতে হবে। সংবিধানে আরো বলা আছে যে স্থানীয় শাসনের নির্বাচিত প্রতিষ্ঠান কর আরোপ, বাজেট প্র¯তুত ও নিজস্ব তহবিল রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকবে। এছাড়া সংবিধানের ১৯ (১) এ পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ ব্যবস্থার কথা, ১১, ৫৯ ও ৬০ অনুচ্ছেদের ভিত্তিতে এর জন্য উন্নয়ন পরিকল্পনা ও রাজস্ব/ কর কাঠামোর বিকেন্দ্রিকরণের কথা সুস্পষ্টভাবে বলা আছে।

বিকেন্দ্রীকরণ এবং বর্তমান সরকারি জোটবদ্ধ দল ও বিরোধী দলের নির্বাচনী প্রতিশ্রতি

আওয়ামী লীগের দিন বদলের সনদের ৫.৬ নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, “দলীয়করণমুক্ত অরাজনৈতিক গণমুখী প্রশাসন প্রতিষ্ঠা করা হবে। যোগ্যতা, জ্যেষ্ঠতা ও মেধার ভিত্তিতে সব নিয়োগ ও পদোন্নতি নিশ্চিত করা হবে। প্রশাসনিক সংস্কার, তথ্য অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং ই-গভার্নেন্স চালু করা হবে। ৬ নং অনুচ্ছেদে ‘অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ’ কর্মসূচি হিসেবে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা চিহ্নিত করা হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে ‘‘ক্ষমতার বিকেন্দ্রায়ণ করে ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পরিষদকে শক্তিশালী করা হবে। জেলা পরিষদকে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আইন-শৃংখলা ও সকল প্রকার উন্নয়নমূলক কর্ম-পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে। প্রতিটি ইউনিয়ন সদরকে স্থানীয় উন্নয়ন ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু, পরিকল্পিত পল্ল¬ী জনপদ এবং উপজেলা সদর ও বর্ধিষ্ণু শিল্পকেন্দ্রগুলোকে শহর-উপশহর হিসেবে গড়ে তোলা হবে।” এই দুটি ঘোষণার পাশাপাশি আওয়ামী লীগের রূপকল্প বা ভিশন ২০২১ দলিলের ২ নং ধারায় তথা রাজনৈতিক কাঠামো, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ ও গণঅংশায়ন অংশে উলে¬খ করা হয়েছে: “স্থানীয় সরকারকে প্রাধান্য দিয়ে রাজনৈতিক কাঠামোতে আমূল পরিবর্তন সাধন করা হবে। উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে নিয়ামক ভূমিকা পালন করবে স্থানীয় সরকার। এ উদ্দেশে জেলা ও উপজেলার স্থানীয় সরকারকে স্বনির্ভর ও স্বশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা হবে।”

সরকারের শরিকদল জাতীয় পার্টি তাদের ইশতেহারে এককেন্দ্রিক শাসনব্যবস্থার পরিবর্তে প্রাদেশিক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তনের কথা বলেছে। তারা দেশকে ৮ টি প্রদেশে বিভক্ত করে ৮টি প্রাদেশিক পরিষদ ও প্রাদেশিক মন্ত্রিসভা গঠনের কথা বলেছে। এই দলটি আদালতসহ পূর্ণাঙ্গ উপজেলা পরিষদ ব্যবস্থা প্রবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে। মহাজোট সরকারের আরেক শরিক জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) তাদের পরিবর্তনের প্রচেষ্টায় বলেছে, “ জাসদ সরকার গঠনে ভূমিকা রাখলে ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী উপজেলা নির্বাচন অনুষ্ঠান সুনিশ্চিত করা, জেলা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সরকারের তরফ থেকে নির্বাচন কমিশনকে তাগিদ ও সহযোগিতা প্রদান করা, স্থানীয় সরকারের ওপর স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সহ মন্ত্রী, এমপি, আমলাদের সকল ধরনের নিয়ন্ত্রণ ও খবরদারি বন্ধ করে স্থানীয় সরকার কমিশনের ওপর স্থানীয় সরকারসমূহকে গতিশীল দায়বদ্ধ ও শক্তিশালী করার সকল দায়িত্ব অর্পণের প্রচেষ্টা চালাবে”।

সংসদে প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল তাদের ২০০৭ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ইশতেহারে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার উন্নয়নে নির্বাচনী প্রতিশ্র“তির ১২ ধারায় বলেছে, “দেশের সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রশাসনকে জনগণের হাতের কাছে নিয়ে যাওয়া এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রশাসনকে ব্যাপকভাবে বিকেন্দ্রীকরণ করা হবে। প্রশাসন বিকেন্দ্রীকরণ ও প্রশাসনের সকল পর্যায়ের উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে জনগণের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহনের সুযোগ প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্যে নিশ্চিতকরণের নীতিতে বিএনপি বিশ^াসী এবং সেই অনুযায়ী সকল কার্যক্রমকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে।… এ লক্ষ্যে নির্বাচিত বিএনপি সরকার প্রচলিত স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা এবং নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ক্ষমতা ও দায়িত্ব বহাল রেখেই প্রান্তিক জনগণের উন্নয়ন ও কল্যাণের লক্ষ্যে তাদের অংশগ্রহণের সুযোগ সম্প্রসারিত করবে। জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা শক্তিশালী ও কার্যকর করা হবে”।

কেন্দ্রীভূত বাজেটে কিছু বৈষ্যমের চিত্র

২০০৮-০৯ অর্থবছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে বরাদ্দের পরিমাণ ছিল ১৯,৫০০ কোটি টাকা। দেশের জনসংখ্যা ১৫ কোটি বিবেচনায় মাথাপ্রতি যার হিস্যা দাঁড়ায় ১৩০০ টাকা। অথচ ঐ অর্থবছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে ঠাকুরগাঁও, জয়পুরহাট, দিনাজপুর, যশোর, মেহেরপুর এবং ময়মনসিংহে মাথাপিছু বরাদ্দের (জুলাই-মার্চ) পরিমান ছিল সর্বনিম্ন অর্থাৎ ঠাকুরগাঁও ২৯০ টাকা, জয়পুরহাট ৩০০ টাকা, দিনাজপুর ৩৪০ টাকা, যশোর ৩৮০ টাকা, মেহেরপুর ৩৮০ টাকা, গাইবান্ধা ৩৯০ টাকা, ময়মনসিংহ ৩৯০ টাকা। যদিও দারিদ্র্য ম্যাপ অনুযায়ী ঐসময়ে এই কয়েকটি জেলা ছিল সবচেয়ে দারিদ্র্যপ্রবণ।

আশ্চর্যজনক বিষয় হলো অপেক্ষাকৃত অর্থনৈতিকভাবে স্বচ্ছল অঞ্চলগুলোতে ঐ নয় মাসে এর ঠিক বিপরীত চিত্র পাওয়া যায়। যেমন: ঢাকা ৭১০ টাকা, চট্টগ্রাম ৮৫০ টাকা, ফেনী ১১৬০ টাকা, সিলেট ১০৮০ টাকা। দেখা যাচ্ছে ঢাকা, চট্টগ্রাম, ফেনী, সিলেট এই জেলালোতে মাথাপিছু বরাদ্দের পরিমান তুলনামূলকভাবে বেশি। এই দুইটি ছক তুলনামূলক বিচার করলে জেলা বা অঞ্চলভিত্তিক বাজেট প্রনয়ণের গুরুত্ব খুব সহজে অনুধাবন করা যায়। একইসাথে এটাও দেখা যায় যে, বেশি বরাদ্দপ্রাপ্ত জেলাগুলোতে অর্থবরাদ্দ দরিদ্র মানুষের অনুকূলে নয়। আবার সামগ্রিক বিচারে গ্রামের তুলনায় শহরে বরাদ্দ বেশি।

দারিদ্য হ্রাসে বিভাগভিত্তিক বৃহৎ ও মাঝারি শিল্প-কারখানার ভূমিকা ও অবস্থান পর্যবেক্ষণ করলে দেখ্েবা কৃষিভিত্তিক মাঝারি শিল্প গড়ে ওঠার প্রচুর সুযোগ থাকলেও উত্তরা-পূর্ব, উত্তরা-পশ্চিম, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বিনিয়োগ বাড়েনি অর্থাৎ নতুন শিল্প-কারখানা তেমন গড়ে ওঠেনি, বরং অসংখ্য মিল-কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে বেসরকারিকরণ, দূর্র্নীতি ও কেন্দ্রিয় অব্যবস্থাপনার কারণে। শিল্প ও শ্রম উইং, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০০০-২০০১ সালের জরীপ মতে সারা দেশে ২৪,৭৫২ শিল্প-কারখানার মধ্যে দেশের মধ্যাঞ্চলে ছিল (ঢাকা বিভাগ) ১১৫৮৮, পূর্বাঞ্চলে (চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগ) ৪২৩৫, উত্তরাঞ্চলে (রাজশাহী ও রংপুর বিভাগ) ৬৫৭০ এবং দক্ষিণাঞ্চলে (খুলনা ও বরিশাল বিভাগ) ২৩৫৯টি শিল্প। অপরদিকে কৃষি নির্ভর গ্রামীণ অর্থনীতির সক্ষমতা পর্যালোচনা করলে দেখা যায় কৃষি উৎপাদনে (২০০৮) পূর্বাঞ্চল পিছিয়ে আছে (একর প্রতি ফলন ২২ মণ), যেখানে মধ্যাঞ্চলে ৩৯ মণ, উত্তরাঞ্চলে ৩৯ মণ, দক্ষিণাঞ্চলে ৩২ মণ। প্রাকৃতিক বিপর্যয় ও অন্যান্য কারণে অবশ্য মধ্যাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলে ফলন অনেক কম হয়েছে (যথাক্রমে ৩১ ও ২১ মণ) ২০০৯ সালে। সুতরাং স্থানিক দারিদ্র দূরীকরণে বাজেটে এসব প্রেক্ষপট বিবেচনায় না আনলে বৈষম্য আরো বাড়ার আশংকা থাকবে। সেক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়া ও দারিদ্রপ্রবণ অঞ্চলগুলোতে বিশেষ ও পৃথিকীকরণ বিনিয়োগ সুবিধা রাখতে হবে বার্ষিক পরিকল্পনায়।

মৌলিক চাহিদা ব্যয় অনুসারে বিভাগওয়ারী দারিদ্র্যের হার (%)

হতদরিদ্র দরিদ্র
জাতীয় ২৫.১ ৪০.০
বরিশাল ৩৫.৬ ৫২.০
চট্টগ্রাম ১৬.১ ৩৪.০
ঢাকা ১৯.৯ ৩২.০
খুলনা ৩১.৬ ৪৫.৭
রাজশাহী ও রংপুর ৩৪.৫ ৫১.১
সিলেট ২০.৮ ৩৩.৮
সূত্র: বিবিএস, খানা আয় ও ব্যয় জরিপ, বিবিএস, ঢাকা, ২০০৫।

এডিপির দ্রুত বাস্তবায়নে বিকেন্দ্রীত বাজেট ও স্থানীয় সরকারের ভূমিকা

দারিদ্য দূরীকরণে এডিপি বাস্তবায়নের নিম্নগতি অন্যতম বাঁধা এবং কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে এখন নিত্যদিনের চ্যালেঞ্জ। অথচ স্থানীয় সরকারগুলো তার পুরো বাজেট ব্যয় করতে পারদর্শীতা দেখালেও স্থানীয় সরকারকে বর্ধিত বাজেট বরাদ্দ দিতে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রচন্ড অনীহা। ২০০৯-১০ অর্থবছরে প্রস্তাবিত বাজেটে স্থানীয় সরকারের জন্য থোক বরাদ্দ ছিল : সংকীর্ণ পরিমাপ(১): (গ্রাম+ইউনিয়ন+উপজেলা) – ৪১৫ কোটি টাকা; মাঝারি পরিমাপ(২): {পরিমাপ (১)+পৌরসভা+জেলা} – ৭৬৫ কোটি টাকা; বৃহত্তম পরিমাপ(৩): পরিমাপ (১)+পরিমাপ (২)+ সিটি কর্পোরেশন – ৬৩০ কোটি টাকা। এ অবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে পারলে সামগ্রিক দারিদ্র পরিস্থিতির উন্নতি ঘটানো যাবে নি:সন্দেহে।

স্থানীয় পর্যায়ে থোক বরাদ্দের ব্যবহারের মাত্রা

বছর ব্যবহার মাত্রা (শতাংশ)
২০০৮-০৯ ২০০৬-০৭ ২০০৩-০৪
গ্রাম সরকার ১০০
ইউনিয়ন পরিষদ ১০০ ১২৫ তথ্য পাওয়া যায় নি
উপজেলা ১০০ ১৩০ ১০০
পৌরসভা ১০০ ১২৫ ১০০
জেলা ১০০ ১৪৮.৩৯ ১৭১.৪৩
সিটি করপোরেশন ১০০ ২২৮.৯৭ ১২১.৪০
সূত্র: আকাশ, ২০১০

বিভাগভিত্তিক তুলনামূলক মাথাপিছু ব্যয়ের পরিসংখ্যান ও অর্থনৈতিক চিত্র

প্রথাগত জাতীয় বাজেট সরকারের সাংবিধানিক অঙ্গীকার রক্ষায় যে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে তা পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে সহজেই বোঝা যায়। এখানে জাতীয় বাজেটে উন্নয়ন ও অনুন্নয়ন খাতের বিভাগ ভিত্তিক পর্যালোচনা দেয়া হলো:

বিভাগভিত্তিক তুলনামূলক মাথাপিছু ব্যয়ের পরিসংখ্যান (টাকা)

বিভাগ ২০০৭-০৮ ২০০৮-০৯ 2009-10(†m‡Þ¤^i পর্যন্ত)
অনুন্নয়ন খাত উন্নয়ন খাত অনুন্নয়ন খাত উন্নয়ন খাত অনুন্নয়ন খাত উন্নয়ন খাত
ঢাকা ৬৮৪১ ১৪০৯ ৬২৯০ ১৪৮৬ ১৩৩৭ ২০৬
চট্টগ্রাম ৪৬৪৮ ১৭৩০ ৪১৪৩ ১৮৯২ ৭৯০ ১৯০
রাজশাহী ৪৭৩০ ১১২৫ ৪৮৩৮ ১৩৩৫ ৯৪৬ ১৫১
খুলনা ৪৬৯১ ১৪১৫ ৪২৭০ ১৩৮৪ ৮২৮ ১৬৫
বরিশাল ৪৫১০ ২০২৪ ৩৭১৬ ১৯৪৩ ৬৬৩ ২৩৩
সিলেট ৩৩২৩ ১৯২৪ ৩১৪৯ ১৭৭১ ৫৯১ ১৪৯
সর্বমোট ৫২৬৮ ১৪৭৭ ৪৯০৯ ১৫৬৫ ৯৮৩ ১৮৩
সূত্র: অর্থ মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট, ২০১০

পরিকল্পনা কমিশনের ২০০৮ এর জরীপ অনুযায়ী দারিদ্র প্রবণতা রাজশাহী, খুলনা ও বরিশাল অঞ্চলে বেশি হলেও বিভাগভিত্তিক তুলনামূলক মাথাপিছু ব্যয়ের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যাচ্ছে, ২০০৯-১০ অর্থবছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অনুন্নয়ন খাতে এসব বিভাগে বরাদ্দ ছিল যথাক্রমে ৯৪৬, ৮২৮ ও ৬৬৩ টাকা এবং উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ ছিল মাথাপিছু যথাক্রমে ১৫১, ১৬৫ ও ২৩৩ টাকা। অর্থাৎ অনুন্নয়ন খাতে ঐ সময়ে গড় ব্যয়ের থেকে যথাক্রমে ৩৭, ১৫৫, ৩২০ টাকা কম ব্যয় করা হয়েছে এবং উন্নয়ন খাতে যথাক্রমে ৩২, ১৮ টাকা কম ও বরিশালে ৫০ টাকা বেশি ব্যয় করা হয়েছে। আমরা যদি বিভাগভিত্তিক দারিদ্র পরিস্থিতির তুলনা করি তাহলে সম্পদবণ্টন ও সরকারি বিনিয়োগের চিত্র উপরোক্ত সারণীর মতো হওয়ার কথা নয়। ২০০৭-০৮ ও ২০০৮-০৯ সালের হিসাব বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, উন্নয়ন ও অন্ন্নুয়ন মিলিয়ে রাজশাহী ও খুলনা বিভাগে গড় সরকারি ব্যয় থেকেও অনেক কম ব্যয় করা হয়েছে, আর বরিশালে উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ গড় অংকের থেকে বেশি হলেও অন্ন্নুয়ন খাতে অনেক কম। এর ফলে এসব অঞ্চলের নাগরিকরা সরকারি সেবা এবং নাগরিকদের জীবন ও জীবিকার মানের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় বৈষম্যের শিকার হয়েছে।

গণতান্ত্রিক বাজেটের চরিত্র কেমন হওয়া উচিত?

জাতীয় বাজেটে জনমতের প্রতিফলন পেতে হলে প্রথমেই দরকার একটি গণতান্ত্রিক বাজেট কাঠামো যার প্রণয়ন, বাস্তবায়ন ও মূল্যায়ন হতে হবে বিকেন্দ্রিক । এক্ষেত্রে প্রশাসনিক কাঠামোর কোন স্তর থেকে বাজেট বিকেন্দ্রীকরণ প্রক্রিয়া শুরু হবে তা বিস্তারিত বিশ্লেষণ ও জনপর্যালোচনার দাবি রাখে। যেহেতু বর্তমানে তিন স্তরবিশিষ্ট স্থানীয় গ্রামীণ সরকার কাঠামো জেলা পর্যায় থেকে উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত বিস্তৃত সেক্ষেত্রে প্রাথমিক পর্যায়ে জেলাভিত্তিক পরিকল্পনা ও বাজেট তৈরির জন্য রূপরেখা প্রণয়ন করা যেতে পারে। প্রসঙ্গতঃ স্বাধীনতা পরবর্তী জেলা বাজেট টাস্কফোর্স এর সুপারিশ এক্ষেত্রে বিবেচনায় আনা দরকার। জেলা স্তরকে প্রাথমিকভাবে বেছে নেওয়ার সুবিধা হলো বাংলাদেশে গ্রাম স্তর বা উপজেলা স্তরে স্থানীয় সরকার কাঠামো নিয়ে রাজনৈতিক দল এবং তাত্ত্বিকদের মাঝে দ্বন্দ্ব ও দ্বিধা থাকায় স্থানীয় সরকারের প্রাথমিক স্তর কোন জায়গা থেকে শুরু হবে সে প্রশ্ন কিছুটা অমীমাংসিত। সেক্ষেত্রে বিকেন্দ্রীকরণের প্রথম পর্যায়ে প্রশাসনিক কাঠামোর অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু জেলা স্তরে স্বশাসিত স্থানীয় সরকার পূনর্গঠনের ব্যাপারে আমলাতন্ত্রের আপত্তি ছাড়া অন্য কোন বড় বাধা নেই। তাছাড়া বিভাগীয় প্রশাসন এক্ষেত্রে কেন্দ্র ও জেলার মধ্যে সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করলেও মূলতঃ স্থানীয় প্রশাসনিক ক্ষমতার ভিত্তি হলো জেলা প্রশাসন। আর বিভাগ প্রশাসনকে স্থানীয় সরকার কাঠামোতে না আনাই যুক্তিযুক্ত, বরং কেন্দ্রীয় সরকার ও জেলা সরকারের মাঝে অন্য কোন স্তর না থাকাটা ভাল এবং বর্তমান তথ্য প্রযুক্তির যুগে ই-কমার্স ও ই-গভার্নেন্সের সুবিধা কাজে লাগিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার ও ৬১ জেলার (৬৪ জেলার মধ্যে তিন পার্বত্য জেলা পৃথক আইন দ্বারা পরিচালিত) মধ্যে সহজেই প্রশাসনিক সমন্বয় করা সম্ভব। এর ফলে স্থানীয় সরকারের স্তরবিন্যাস হবে এরকম :

সমন্বয় ও সম্পদবণ্টন প্রক্রিয়া : জেলা সরকার > উপজেলা সরকার > ইউনিয়ন পরিষদ
পরিকল্পনা পর্যায় : ইউনিয়ন পরিষদ> উপজেলা সরকার > জেলা সরকার

এর ফলে পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন ও সম্পদবণ্টন-এর ক্ষেত্রে জেলা স্তরই হবে আইন দ্বারা নির্ধারিত নির্দিষ্ট খাতসমূহ (যেমন- প্রাথমিক ও গণশিক্ষা, প্রাথমিক স্বাস্থ্য ইত্যাদি) -এর জন্য কেন্দ্রীয় ভিত্তি। তবে এসমস্ত ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকার তথা মন্ত্রণালয়সমূহ শুধুমাত্র জেলা স্তরের কাজগুলোর সমন্বয়, পরামর্শ প্রদান, সার্বিক তত্ত্বাবধান, জনঅংশগ্রহণমূলক পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন করতে পারবে। ভালো হতো যদি স্তর আরেকটা কমানো যেতো, তাহলে জনগণ উন্নয়নের ফলাফল আরো দ্রুত ও সহজে ভোগ করতে পারতো। উল্লেখ্য ইউনিয়ন পরিষদ ৯টি ওয়ার্ড এর সমন্বয়ে গঠিত, এবং ওয়ার্ডভিত্তিক জনসংখ্যা মোটামুটি একটি বৃহৎ গ্রামকে প্রতিনিধিত্ব করে। সে অর্থে সাধারণ মানুষ তার হাতের নাগালেই (ওয়ার্ডের মধ্যে) একজন নির্বাচিত সরকারি প্রতিনিধি (মেম্বার) পাচ্ছে। তবে ইউনিয়ন পরিষদকে শক্তিশালী করতে উপজেলার ন্যায় এ স্তরেও যোগ্যতা সম্পন্ন নির্বাহী বিভাগ ঢেলে সাজাতে হবে।

ক্রমবর্ধমান নগরায়নের ফলে পৌরসভার সংখ্যা ও পরিধি যেভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে (বর্তমানে পৌরসভার সংখ্যা ৩০৮-এ উন্নীত হয়েছে) তাতে উপজেলা-সদর কেন্দ্রিক গ্রামীণ গ্রোথ সেন্টারগুলো ভবিষ্যতে পৌরসভার আদল নেবে অচিরেই। তাছাড়া বিদ্যমান ৬টি সিটি করপোরেশনের ক্রমবর্ধমান প্রশাসনিক আওতা ও ভৌগোলিক পরিধি বৃদ্ধির ফলে নগর সংলগ্ন বা শহরের প্রান্তসীমায় অবস্থিত গ্রামীণ গ্রোথ সেন্টার এবং পৌরসভাগুলো পার্শ্ববর্তী সিটি করপোরেশনের সাথে একীভূত হয়ে যাবার সম্ভাবনা রয়েছে। সেক্ষেত্রে ভবিষ্যতে মেট্রো ম্যানিলার আদলে গ্রামীণ স্থানীয় সরকারের পরিবর্তে অসংখ্য নগর সরকারের প্রয়োজন পড়তে পারে, স্থানীয় সরকারের ভবিষ্যৎ বিন্যাস কৌশলে এ বিষয়টা মাথায় রাখতে হবে।

উপরিল্লিখিত বিকেন্দ্রিত কাঠামো ছাড়াও গণতান্ত্রিক বাজেটের জন্য প্রয়োজন একটি অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে জাতীয় বাজেট প্রণয়নে জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা সম্ভব। কৌশল হিসেবে জেলাভিত্তিক বাজেট (প্রাথমিক পর্যায়ে) এবং পর্যায়ক্রমে আইন নির্ধারিত অন্যান্য স্থানীয় সরকার পর্যায়ে বাজেট প্রণয়ন করার কথা আগেই বলা হয়েছে। এক্ষেত্রে মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় সরকারের কাজের ক্ষেত্র ও পরিধি আলাদা করা দরকার। প্রয়োজন জেলা বা আঞ্চলিক পর্যায়ে বিকেন্দ্রীকরণের জন্য সম্ভাব্য খাতসমূহ নির্দিষ্ট করা, যেমন – প্রাথমিক শিক্ষা, প্রাথমিক স্বাস্থ্য, নারী, শিশু, কৃষি সম্প্রসারণ, শিল্প, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি। পক্ষান্তরে কেন্দ্রীয় সরকারের আওতায় দেয়া যেতে পারে উচ্চশিক্ষা, বিশেষায়িত চিকিৎসা সেবা, বিদ্যুৎ, গ্যাস, জ্বালানী, জাতীয় যোগাযোগ, জাতীয় নিরাপত্তা ইত্যাদি খাতসমূহ। পাশাপাশি জাতীয় বাজেট ও আঞ্চলিক বাজেটের পরিপূরক খাতগুলোও চিহ্নিত করা দরকার। এর ফলে আঞ্চলিক বৈশিষ্ট্য ও চাহিদার ভিত্তিতে সম্পদ ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি করা সম্ভব হবে। গণতান্ত্রিক বাজেট করতে হলে রাজস্ব আয় বন্টনের ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক ন্যায়বিচারকে প্রাধান্য দিতে হবে। কর ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে নির্দিষ্ট আনুপাতিক হারে (৫০:৫০ নীতিতে বন্টন হতে পারে) কেন্দ্রীয় সরকার ও জেলা সরকারের মধ্যে রাজস্ব আয় বন্টন করতে হবে। আবার কেন্দ্রীয় সরকার থেকে স্থানীয় তথা জেলা সরকারে মঞ্জুরী বরাদ্দের ক্ষেত্রে অধিকতর অনগ্রসর ও দারিদ্র্যপ্রবণ জেলাগুলোতে বরাদ্দ বাড়াতে হবে (২৫:৭৫ অনুপাতে বাজেট বন্টন হতে পারে) । এক্ষেত্রে আঞ্চলিক ও জাতিগত বৈষম্য বিবেচনায় রাখতে হবে। ভারত, ইন্দোনেশিয়া, যুক্তরাজ্যের অনুকরণে পৃথক ‘অনগ্রসর অঞ্চল তহবিল’ তৈরি করতে হবে যেখান থেকে স্থানীয় সামাজিক ও ভৌত অবকাঠামো তৈরির জন্য ঐ সমস্ত জেলা সরকারগুলোকে বার্ষিক ন্যূনতম ১০০ কোটি টাকা করে বরাদ্দ দেয়া যেতে পারে।

সর্বোপরি, গণতান্ত্রিক বাজেট পেতে হলে সংসদে সদস্যদের কার্যকরী অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা দরকার। বাংলাদেশের সংবিধানের ৮৩ অনুচ্ছেদ সংসদকে সরকারি অর্থব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দিয়েছে। “সংসদের অনুমতি ছাড়া বাংলাদেশের নির্বাহী বিভাগ কর সংগ্রহ বা অর্থ ব্যয় কোনোটিই করতে পারে না। ….তবে এজন্য সংবিধানে বাজেটের বিন্যাস সম্পর্কে কোনো দিক্-নির্দেশনা নেই”। এক্ষেত্রে সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলো ভূমিকা নিতে পারে। তাছাড়া জেলাভিত্তিক উন্নয়ন কার্যক্রম তদারকি করতে জাতীয় সংসদে জেলা/ অঞ্চল ভিত্তিতে বিস্তাারিত আর্থিক বিবরণী প্রকাশ করা উচিত। সেইসাথে তথাকথিত আধুনিকায়নের মডেল পরিত্যাগ করে গণতান্ত্রিক বাজেটে উত্তরাধুনিক চিন্তার প্রকাশ ঘটানো উচিৎ যেখানে মুক্ত চিন্তা, মানবাধিকার, সামাজিক ও অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার, প্রতিবেশ ও পরিবেশ হবে অন্যতম বিবেচ্য মাপকাঠি। বাজেটের গণতান্ত্রিক চরিত্র আনতে হলে শুধু অবকাঠামো বা লজিস্টিকস্ কেন্দ্রিক চাহিদা নয়, জনসেবার মান উন্নত করার জন্য কর্মসূচি নেয়া অত্যাবশ্যক। বাজেটে সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও কার্যকরী জনবল তৈরি অন্যতম বিবেচনা হিসেবে থাকা দরকার। মোটকথা, বাজেটে অধিকারভোগী বা উপকারভোগীর মতামতের প্রতিফলন থাকা প্রয়োজন। সেইসাথে বাজেট প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং তৃণমূল জনগনকে দ্রুত ও কার্যকরভাবে সম্পৃক্ত করতে গুণগত ইলেক্ট্রনিক সরকার ব্যবস্থা (ই-গভার্নেন্স) চালু করা এখন সময়ের দাবি।

শেষ কথা

গত চার দশকে শক্তিশালী স্থানীয় সরকার বিষয়ক গবেষণা, আলোচনা ও আন্দোলনের মূল প্রতিপাদ্য ছিল প্রশাসনিক বিকেন্দ্রিকরণ। এক্ষেত্রে প্রশাসনিক ক্ষমতার বিকেন্দ্রিকরণের পাশাপাশি জাতীয় বাজেট ও উন্নয়ন পরিকল্পনার বিকেন্দ্রিকরণের বিষয়টি তেমনভাবে উঠে আসেনি কোন নীতি আলোচনায়। অথচ জাতীয় পরিকল্পনা ও উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় সাধারণ নাগরিকের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং সংবিধানের ১১, ৫৯ ও ৬০ অনুচ্ছেদের ভিত্তিতে এর জন্য উন্নয়ন পরিকল্পনা ও রাজস্ব/ কর কাঠামোর বিকেন্দ্রিকরণ প্রয়োজন। কেননা আমলানির্ভর ও অতিকেন্দ্রীভূত জাতীয় পরিকল্পনা ও বাজেট প্রক্রিয়ায় সাংসদদের কার্যকরি অংশগ্রহণের সুযোগই যেখানে সীমিত সেখানে সাধারণ নাগরিক ও পেশাজীবীদের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহন নিশ্চিত করা অনেক জঠিল ও কঠিন বিষয়। বাজেট প্রক্রিয়ার ও কাঠামোর বিকেন্দ্রিকরণ ছাড়া তাই কার্যকর জনঅংশগ্রহণ সম্ভব নয়। অন্যদিকে বাজেটসহ নীতি নির্ধারণী প্রক্রিয়ায় দীর্ঘদিন জণগণের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ না থাকার কারণে রাষ্ট্রীয় ক্রিয়াকর্মে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রায় অনুপস্থিত, যার ফলে দূর্নীতি আজ দারিদ্র দূরীকরণে সবচেয়ে বড় কাঠামোগত বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে হলে বাজেটকে গণতান্ত্রিক করার আন্দোলন সৃষ্টি করতে হবে যেখানে স্থানীয় নাগরিক কমিটি, উন্নয়ন সংগঠন, তৃণমূল সংগঠন, সংবাদমাধ্যম/ গোষ্ঠী ও সমাজের অন্যান্য অগ্রসর চিন্তাধারার মানুষেরা দেশের সকল মানুষের ন্যায্য উন্নয়ন পরিকল্পনার জন্য কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় সরকারের কাছে ওকালতি করতে কাজ করবেন। এটা একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া এবং সে লক্ষ্যে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ লড়াই চালিয়ে যেতে হবে।

তথ্যসূত্র

  • গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার, বাংলাদেশের সংবিধান , গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার, ঢাকা, ১৯৭১।
  • আবুল মাল আব্দুল মুহিত, জেলায় জেলায় সরকার, ইউপিএল, ঢাকা, ২০০২।
  • আকবর আলি খান, বাংলাদেশের বাজেট প্রক্রিয়ায় গণমানুষের অংশিদারীত্ব: কতিপয় নীতিমালা সংস্কারের অন্বেষা, সমুন্নয়, ঢাকা, ২০০৮।
  • অর্থ মন্ত্রণালয়, অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতা ২০১০-১১, অর্থ মন্ত্রণালয়, ১০ জুন ২০১০ এ দর্শনকৃত, পৃ:২৩, <http://www.mof.gov.bd/en/budget/10_11/budget_speech/10_11_bn.pdf?phpMyAdmin=GqNisTr562C5oxdV%2CEruqlWwoM5> ।
  • বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, দিন বদলের সনদ, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, ঢাকা, ২০০৮।
  • বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, রূপকল্প ২০২১, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, ঢাকা, ২০০৮।
  • জাতীয় পার্টি, নির্বাচনী ইশতেহার ২০০৭, ঢাকা, ২০০৭।
  • জাসদ, পরিবর্তনের প্রচেষ্টা, জাসদ, ঢাকা, ২০০৭।
  • বিএনপি, নির্বাচনী ইশতেহার ২০০৭, বিএনপি, ঢাকা, ২০০৭।
  • S Hossain, District-wise budgets unlikely from next year, New Age, 18 February 2010, viewed on 5 May 2010, <http://www.newagebd.com/2010/feb/18/front.html#2>.
  • বিবিএস, খানা আয় ও ব্যয় জরিপ, বিবিএস, ঢাকা, ২০০৫।
  • এমএম আকাশ, ‘স্থানীয় সরকারের আর্থিক ক্ষমতায়ন: প্রথম বাজেটে হয়নিÑ দ্বিতীয় বাাজেটে হবে কি?’, জাতীয় বাজেট ও স্থানীয় সরকার শীর্ষক সেমিনার, গভার্নেন্স কোয়ালিশন, ঢাকা, ২০১০।
  • Planning Commission, A strategy for Poverty Reduction in the Lagging Regions of Bangladesh, Planning Commission, Dhaka, 2008G
  • বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো, Statistical Yearbook 1998, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো, ঢাকা, ১৯৯৮ ।